এএসপিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মাইন্ড এইড হাসপাতালের ৬ জন আটক


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১০ নভেম্বর, ২০২০

নির্ভীক সংবাদ ডেস্ক: মানসিক সমস্যার কারণে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম শিপনকে ভর্তির কিছুক্ষণ পর ওই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে ভর্তির পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। আনিসুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। কী ঘটেছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।

হাসপাতাল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি রুমে ঢোকানো হয়। কয়েকজন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে তার উপরে উঠে চেপে ধরেন। এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন ব্যক্তিকে তাঁর পা চেপে ধরে থাকতে দেখা যায়। এ সময় মাথার দিকে থাকা লাল পোশাক পরা দুজন কর্মচারী তাঁকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ মুখে মাস্ক পরে তখন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।

চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই তাঁর শরীর নিস্তেজ ছিল। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক কাছে এসে দেখেন। একজন কর্মচারী তখন তাঁর মুখে পানি ছিটান। তাতেও তিনি নড়াচড়া করছিলেন না। তখন কর্মচারীরা ওই রুমের মেঝে মুছে পরিষ্কার করেন। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন মহিলা সেখানে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় অ্যাপ্রোন পরা একজন মহিলা তাঁর বুকে জোরে জোরে পাম্প করতে থাকেন।

আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
সূত্র: বার্তা-২৪

Total view = 252