ওসি ও জামাত নেতার যোগসাজশে মামলা: কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত সেই মেরী


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহী মহাগরীর রাজপাড়া থনার সাবেক ওসি সাহাদত হোসেন খান, মাদারল্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ফাতেমা সিদ্দিকা ও জামাত নেতার যোগসাজশে মিথ্যা অভিযোগে মামলা এনে বিনাদোষে ৯ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ফজিলাতুন নেসা মেরি (৪৫)।

৯ দিন জেলখানায় থানার পর সোমবার (৭ ডিসেম্বর)রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তিনি।

তার ভাই মোঃ মাসুদ আলী পুলক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিনা দোষে জীবনের মূল্যবান ৯ টি দিন আমার বোনের নষ্ট হয়ে গেলো আমি আইনিভাবে লড়াই করে প্রকৃত দোষী ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক বিচার চাই,আর এই মিথ্যা মামলা থেকে আমার বোনকে অব্যহতি দেয়া হোক।

চুরির মিথ্যা অভিযোগে ৯ দিন কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, দেখতে পাননি মুক্ত আকাশ, মিষ্টি রোদ বা ফুরফুরে হাওয়ার। অবশেষে রাজশাহী মহানগর আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর ) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মেরী রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করেন। এ সময় তার স্বজনরা তাকে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

সোমবার দুপুরে ফজিলাতুন নেসা মেরি (৪৫) মুক্তির নির্দেশনা রাজশাহী আদালত থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছালে আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ৯ দিন পর জামিনে মুক্তির খবরে তার স্বজনরা আগে থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

ফজিলাতুন নেসা মেরি বলেন, তিনি তার জামিনে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং যারা তার জামিনে মুক্তির জন্য সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তির পর তাকে মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় তার বাসায় নেওয়া হয়।

মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বাবু জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হোক সেইসাথে
যারা মেরীর মানহানিকর তথ্য দিয়ে হয়রানী ও মামলা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

প্রসঙ্গত,  মাদারল্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ফাতেমা সিদ্দিকা গত ২৮ নভেম্বর নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। এতে তিনি দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) ফজিলাতুন নেসা মেরি (৪৫) চেম্বারের ড্রয়ার থেকে এক লাখ টাকা চুরি করেছেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ মেরিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে মেরির স্বজনদের দাবি, প্রায় সাত মাস আগেই চাকরি ছেড়েছেন মেরি।

ব্যক্তিগত ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা মেরির নামে চুরির মামলা দিয়েছেন। তাই মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মেরির ভাই মাসুদ আলী পুলক রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার বাসিন্দা মাসুদ আলী পুলক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার বড় বোন মেরি গত আনুমানিক ১২ বছর ধরে মাদারল্যান্ড হাসপাতালের ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার পি.এ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের গত ১৭ মে চিকিৎসকের বোনদের সাথে কথাকাটাকাটি এবং মনোমালিন্যের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন।

এরপর ডা. ফাতেমা একাধিকবার কাজে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। তার বোন চাকরি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৭ আগস্ট ফাতেমা সিদ্দিকা তার বোনের নামে নগরীর রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্ত করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী। তিনি উভয়পক্ষকে ১৯ তারিখে থানায় উপস্থিত হতে বললে তার বোন থানায় হাজির হন। কিন্তু ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা যাননি। কিন্তু পরে ২৮ নভেম্বর আবার রাজপাড়া থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২৭ অক্টোবর টাকা চুরি হয়। অথচ মামলা দায়ের করেছেন এক মাস পর ২৮ নভেম্বর রাতে। পুলিশ প্রভাবিত হয়ে তদন্ত ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই তার বোনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান এবং বর্তমানে তিনি মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করছেন। এখন তার বোনের পুরো পরিবার দূর্বিসহ ও অসহায় জীবনযাপন করছেন। তিনি মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি ও তার বোনকে ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদারল্যান্ড হাসপাতালের অপর এক কর্মাচী জানান, ফজিলাতুন নেসা মেরি ১২ বছর থেকে সততার সাথে তার দায়ীত্ব পালন করে আসছেন। এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা তার দ্বারা হতে পারে না।

কোথাও ভুল হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিলশিমলা এলাকার স্থানীয়রা বলেন, মেরিকে আমরা ছোট থেকে চিনি। পাঁওয়াক্ত নামাজ-কালামসহ পর্দার মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করেছেন। এ ধরনের মিথ্যা মামলার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তারা।

এদিকে উক্ত ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয়সহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে মেরীর সুবিচার ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সেই সাথে জামায়াত নেতা,ডা: ফাতেমা সিদ্দিকা ও তার স্বামীর যোগসাজশে এই নাটকীয় মামলা দিয়ে নির্দোষ মেরীকে ফাঁসিয়ে তারা অর্থ হাতানোর চেষ্টা করছে সে বিষয়ে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশ করে।
সংবাদ প্রকাশের পরে ও একাধিক অনিয়মের কারনে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন খান কে রাজপাড়া থানা থেকে সিটিএসবিতে পদলি করা হয়েছে।

নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Total view = 430