• শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন



কারখানায় আগুন: স্বজনদের আহাজারি নিহত ৫২

Reporter Name / ৮৯ Time View
Update : শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদক: আগুন জ্বলছে কারখানায়। তখনো ভেতরে আটকা শ্রমিকেরা। বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের আহাজারি। গতকাল সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস লিমিটেডের কারখানার সামনে। ভিতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে আসে। একের পর এক লাশ বের হতে থাকে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের ছয়তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯ ঘণ্টা সময় লেগেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট ১৯ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বাধীনতার পর দেশে যতগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডটি অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ওই কারখানায় আগুন লাগে। আর নিয়ন্ত্রণে আসে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে।
সূত্রটি জানিয়েছে, এর আগে ২০১৫ সালের জুনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেতজুরী এলাকায় ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও প্রায় ১৯ ঘণ্টা লেগেছিল। ইস্পাতের ফ্রেমের ওপর তৈরি ওই কারখানার পুরোটাই ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে ওই ঘটনায় কেউ মারা যাননি। এরপর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার রাসায়নিক গুদামে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা। ওই ঘটনায় মারা যান প্রায় ৭৮ জন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৬ ঘণ্টা।

অগ্নিকাণ্ড এত দীর্ঘ সময় ধরে চলার কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই ভবনে এমনিতেই দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিকের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। ছিল জ্বালানি তেল, রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিকসামগ্রী, ফয়েল পেপার, প্যাকেট তৈরির কাগজসহ নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ও তরল পদার্থ। এর সবই দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের আগুন শুধু পানি ছিটিয়ে নেভানো সম্ভব নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে শুধু পানি ছিটালে আগুন আরও বেড়ে যায়।

কেন একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, জানতে চাইলে শ্রম অধিকারবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে ঘটছে। এর প্রধান কারণ, অগ্নিকাণ্ডের জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাঁর বিচার হয় না। ওই দায়ী ব্যক্তি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক বা প্রধান নির্বাহী। ফিনিক্স, তাজরীন, রানা প্লাজা থেকে শুরু করে এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী প্রধান ব্যক্তিদের এখনো বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণে মালিকেরা অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা উন্নত করেন না।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category