তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ইস্যুতে সংসদে বিতর্ক


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৭ নভেম্বর, ২০২০

নির্ভীক সংবাদ ডেস্ক: সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মূল উদ্দেশে ছিল সরকারকে সন্তুষ্ট করা- বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করার জন্য সেই রায়টি হয়েছিল। এটা সরকারকে খুশি করার জন্য কোন রায় না।’ বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংসদে মৃদু বির্তক সৃষ্টি হয়। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ বিষয়টি উত্থাপন করেন। মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি বিল পাসের আগে বিষয়টি নিয়ে যুক্তি তুলে

ধরেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গতকাল সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সামুদ্রিক মৎস বিল-২০২০ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী। বিলের দফায় সংশোধনী ও জনমত যাচাই-বাছাই করার প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশীদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কথা তোলেন।

সামরিক শাসনামলে জারি করা সমস্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হারুনুর রশীদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের যে সমস্ত রায় দেয়া হয়, সমস্ত রায় কি আমরা কার্যকর করি, মানি? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে অবজারবেশন দেয়া হয়েছিল, যে রায় দেয়া হয়েছিল সেগুলো কার্যকর করা হয়নি। সুতরাং রায় দেওয়া যায়… ২০১১ সালে সরকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই রায়টি প্রদান করা হয়েছিল। অর্থাৎ পঞ্চম এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিল করলাম অথচ ওই সময় যে সমস্ত কর্মকা- আজ পর্যন্ত ওই আইনের দ্বারা চলমান রয়েছে সেগুলোকে কিভাবে বাতিল করব? ওই আইনের কার্যকারিতা কি প্রয়োজন নাই? আজকে ওই সময়ের সমস্ত আইনকে অবৈধ করে দিলেন, তাহলে ওই সময় যে সমস্ত আইন দ্বারা কার্যকর হয়েছে। আমি সামরিক আইনকে অবৈধ ঘোষণা করলাম কিন্তু ওই সময়ের সমস্ত কর্মকা- অবৈধ ঘোষণা করল ওই সময় যে সমস্ত আইন দ্বারা কার্যকর সেগুলোর কি হবে?

জবাবে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, কেয়ারটেকার গভন্টের অবজারবেশনকে আমরা মানি নাই কেন? এরকম একটা কথা বলতে চেয়েছেন। অবজারবেশনটা কতটুক ছিল? সংসদ চাইলে। তৎকালিন সময়ে সংসদ চাননি। অবজারবেশন কোন ডিসিশন না, আর অবজারবেশনের অপশনটা পার্লামেন্টে দেওয়া হয়েছিল পার্লামেন্ট যেটাকে যথার্থ মনে করেছেন, পার্লামেন্ট সে বিষয়টি করেছেন। সরকারকে খুশি করার জন্য পঞ্চদশ এবং সপ্তদশ সংশোধনী হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান। যেটাকে প্রায়েই আমরা রেফার করি। এই সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে অনুচ্ছেদ ১ থেকে শুরু করে শেষ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত কোথাও মার্শাল ল নামক কোন আইন নাই এবং কেউ কাউকে অথরিটি দেয়নি চাকুরিতে থাকা অবস্থায় আমি এসে দাড়িয়ে বলব বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম দেশবাসী আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। আমাদের সংবিধান কি বলছে, যদি রাষ্ট্রপতি না থাকেন উপ রাষ্ট্রপতি আছেন, উপ রাষ্ট্রপতি যদি না থাকেন স্পিকার রয়েছেন। কে সামরিক শাসকদের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের অথরিটি দিয়েছিল ক্ষমতা দখল করার? ইউনিফর্ম পরে আমি প্রার্থী আমাকে ভোট দেবেন না, দেবেন না, হ্যাঁ বা না ভোট। কোন কোন জায়গায় নাকি ১০১ শতাংশ ভোট দেয়া হয়েছিল। এই জাতীয় ত্রুটি নিয়ে যারা আসছেন তাদের লিগ্যাল কোন স্ট্যান্ড না থাকার কারণেই সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় দিয়েছেন। এই রায় সরকারকে খুশি করার জন্য নয়, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করার জন্য সেই রায়টি হয়েছিল। এটা সরকারকে খুশি করার জন্য কোন রায় না।

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

Total view = 146