• রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

তানোরে মাছ চাষিদের প্রতারণায় রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক মাছ চাষিদের প্রতারণায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) শস্য ভান্ডার। হাতিশাইল মাঠে তিন-ফসলী কৃষি জমি ধ্বংস করে। অবৈধভাবে প্রায় তিনশ’ বিঘা আয়তনের পুকুর খনন করা হয়েছে এবং আরো প্রায় দুশ’ বিঘা আয়তনের অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। এদিকে এসব পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হলেও পুকুরকে কৃষি বা পতিত দেখিয়ে খাজনা দেয়া হচ্ছে। এতে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। সুত্র জানায় পৌর এলাকায় পুকুরের বার্ষিক কর ৫০ টাকা শতক, পৌরসভার বাইরে ৪০ টাকা শতক এবং কৃষি ও পতিত জমি ২ টাকা শতক। সেই হিসেবে ৩৩ শতক বা এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুরের খাজনা বছরে এক হাজার ৩২০ টাকা।কিন্ত্ত কৃষি জমি দেখিয়ে এক বিঘা আয়তনের পুকুরে তারা খাজনা দিচ্ছে দু’টাকা শতক হিসেবে মাত্র ৬৪ টাকা। এসব পুকুরে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করলেও সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন কৃষি বা পতিত জমি দেখিয়ে মাত্র ২ টাকা। অর্থাৎ প্রতি শতকে ৩৮ টাকা করে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের এসব দুর্নীতে সহায়তা করছে ভুমি অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ এক বিঘা আয়তনের পুকুরের ইজারা মুল্য প্রায় লাখ টাকা।
এদিকে উপজেলার কামারগাঁ ইউপির হাতিশাইল মাঠে গভীর নলকুপের আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ও স্কীমভুক্ত তিন ফসলী জমি ধ্বংস করে ফের অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে জমি সংকটের কারণে গভীর নলকুপ প্রায় অকেজো হতে চলেছে। এসব জমিতে চাষাবাদের সুবিধার জন্য বিএমডিএ কোটি টাকা খরচ করে গভীর নলকুপ স্থাপন, আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ও ক্রসড্যাম নির্মাণ করেছে। এমনকি সম্পুরুক সেচের জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে মাঠের খাড়ি পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব অবৈধ পুকুর খনন সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক কৃষি নির্ভর শ্রমজীবী পরিবার কর্মহীন ও
তাদের জীবীকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়াও গোচারণ ভুমি সংকটে গবাদিপশু লালন-পালন বন্ধ হয়ে পড়বে। শ্রমজীবীদের শ্রমের সন্ধানে এলাকা ছাড়তে হবে। এক সময় শ্রমজীবী পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিরা এসব কৃষি জমিতে শ্রমদিয়ে ও অসময়ে গবাদিপশুর চারণভুমি হিসেবে ব্যবহার করতো। তবে
কেশরহাটের সাদিকুল ইসলাম ও আব্দুল করিমের পুকুর সন্ত্রাসে সেই সব এখন কেবলই অতীত। তিন ফসলী মাঠ এখন বাণিজ্যিক পুকুরে পরিণত হয়েছে। এঘটনায় কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category