দুর্গাপুরের ঐাতিহ্যবাহী কানপাড়ার সন্দেশ দেশের গন্ডি ছেড়ে বিদেশে


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

জিএম কিবরিয়া,রাজশাহী : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নাম আসলেই কানপাড়ার সন্দেশের কথা সবার মনে পড়ে যায়। উপজেলা কানপড়া নামক বাজারে এই বিখ্যাত সন্দেশ পাওয়া যায়। বাজারের নামে অনুসারে “কানপড়া সন্দেশ” নামকরণ করা হয়। যা ইতিমধ্যে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গাপুরে এসেছেন কিন্তু কানপাড়া সন্দেশ খেয়ে যান নি এমন লোক খুব কম পাওয়া যায়। দুর্গাপুর থানার ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছে এই কানপড়া সন্দেশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মিষ্টি প্রেমীদের আগমন ঘটে কানপাড়া বাজারে। এখানকার সন্দেশ সকাল থেকে দুপুর হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। খাঁটি দুধের ছানা থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু এই সন্দেশ। ছানার সাথে চিনি ও সুজি আটা ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা তাপ দিয়ে তাকে” নিয়ে আসতে হয়। পাক পূর্ণ হয়ে গেলেই শীতল হয়ে জমে তৈরি হয়ে যায় সন্দেশ । এই কানপড়া সন্দেশ কে বিখ্যাত করার অন্যতম কারিগর মিন্নাত আলী। আজ থেকে প্রায় পয়ত্রিশ বছর আগে নিজের পালিত গরুর দুধ ভালো দামে বিক্রি করতে না পেরে সন্দেশ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন না এইভাবে তিনি চায়ের দোকানের সাথে সন্দেশ বিক্রি শুরু করেন। শুরুটা তেমন ভালো ছিল না কারণ থানা বাজার থেকে কানপড়া বাজারের দূরত্ব অনেক ছিল।

আস্তে আস্তে কানপড়া সন্দেশের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তার সন্দেশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আগমন ঘটেতে থাকে। বর্তমানে তিনি ৫০ থেকে ৬০ কেজি দুধের ছানা থেকে ১৫ থেকে ৩০ কেজি সন্দেশ তৈরি করেন। ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে প্রায় তিন চার ঘন্টার ভিতরেই বিক্রি হয়ে যায়। তিনি ছাড়াও রয়েছে আরও ১০ দোকানী। এই বাজারে দিনে কয়েক-মন সন্দেশ বিক্রি হয়। মিন্নাত আলীর সন্দেশ সম্পর্কে রহমত আলী বলেন,আমার বাড়ি দুর্গাপুর বাজারে এখান থেকে কানপাড়ার দূরত্ব প্রায় আট, দশ কিলো তার সন্দেশ আমার এতই পছন্দের যে মাঝে মাঝেই আমি দুর্গাপুর থেকে তার সন্দেশ খাওয়ার জন্য যাই। বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে এখানকার সন্দেশ নিয়ে বেড়াতে যাই। খুবই ভালো লাগে একদিকে তিনি দুর্গাপুরের নাম চারদিকে ফুটিয়ে তুলছেন।
মিন্নাত আলী রাজশাহী সংবাদকে জানান, আমার সন্দেশের চাহিদা অনেক আমি বিক্রি করে এগোতে পারি না। সকলে ইচ্ছেমতো খেয়ে বাড়ির জন্যও নিয়ে যায়। অনেকেই একটু শক্ত গঠনের নেন বিদেশে নেওয়ার জন্য। তাঁর প্রতিদিন সন্দেশ বিক্রি করে হাজারের উপরে লাভ থাকে। সকলকে আমন্ত্রণ রইল আমার হাতের সন্দেশ খাওয়ার জন্য।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Total view = 166