বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খননের মাটিবাহী ট্রাক্টারে অতিষ্ঠ জনজীবন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুরে ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের মাটি চড়া দামে বিক্রি করে ট্রক্টারে পরিবহনে সড়কের সর্বনাশ করছে অবৈধ পুকুর খননকারী সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে
তাদের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক অবৈধ পুকুর খনন ও সেই পুকুর খননের মাটি লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে ফুলে ফেঁপে উঠছেন পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ দালাল চক্র।অবৈধ পুকুর খনন থেকে মাটি ট্রক্টারে তোলা হচ্ছে

গ্রামীণ সড়কের চলাচলকারী জনসাধারণ অবৈধ ট্রাক্টরের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে অবাধে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর ও ফসলি জমি খেকো এসকেভেটর। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে।

বিরামহীন ভাবে চলছে অবৈধ পুকুর খননে এসকেভেটর ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে পুকুর খননের মাঠি বিক্রি হচ্ছে ভাটায়। ফলে এই যানবাহনে চলাচলে শব্দ দুষণেও আশপাশের গ্রামের মানুষ,ধূলোবালীতে রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

কৃষি উন্নয়নের জন্য এসব ট্রাক্টর আমদানি করা হলেও মালিকরা এগুলো ব্যবহার করছে ইট, ভাটায় ও নিচু জায়গায় অবৈধ পুকুর খনননের মাঠি পরিবহনের কাজে। ট্রক্টার চলছে দিনরাত সমানতালে মাটি পরিবহনের কাজে। রাস্তায় এরা উচ্চ শব্দে হর্ণ বজিয়ে বেহাল অবস্থায় চলাচল করছে। এসব অবৈধ যন্ত্রদানবের প্রতি নজর নেই প্রশাসনেরও।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ এবং পুকুর-দীঘিনালা ভরাট চলছে অবৈধ পুকুর খনননের মাটি দিয়ে। ট্রাক্টরের অত্যাচারের মুখে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোড পারমিশন বিহীন ট্রাক্টর ও সনদ বিহীন ড্রাইভারদের কারণে রাস্তা-ঘাটে চলাচলকারী মানুষ সার্বক্ষনিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে। বিকট শব্দে মাটি বোঝাই নিয়ে সাদা পাউডারের মত ধুলো উড়িয়ে দাপিয়ে চলছে এরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি থেকে মাটি বোঝাই নিয়ে, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রাামীণ সড়ক গুলোর উপর দিয়ে ব্যাপক হারে চলাচল করছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর উপজেলার-নওপাড়া- মোহনগঞ্জ- শ্যামপুর – কানপাড়া, আলীপুর-খাসখামার তেকাটিয়া, আলীয়াবাদ- পালশা, শানপুকুরিয়া- দুর্গাপুর বাজার সড়ক সহ উপজেলার প্রত্যেক সংযুক্ত সড়কগুলোতেই দিনরাত ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ পরিবহন।

এসব অবৈধ ট্রাক্টরগুলো সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কৃষি জমি থেকে মাটি বোঝাই করে বিভিন্ন ইট ভাটায় এবং পুকুর-দীঘি-নালা ভরাটের কাজ করছে। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের শিশু-কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

নওপাড়া কেজি স্কুলের শিক্ষক জানান, এ স্কুলে শতশত শিক্ষার্থী রাস্তায় চলাচল করে।
স্কুলে চলাচলের একটি মাত্র প্রধান আলীয়াবাদ- শ্যামপুর একটি মাত্র রাস্তা এটি যা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে গেছে। এসব অবৈধ ট্রাক্টর মাটি নিয়ে বেপরোয়া অবস্থায় চলাচল করে রাস্তায়।

দুর্গাপুর উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন যাবত প্রায় শতাধিক ট্রাক্টর মাটি নিয়ে ভীতি সঞ্চার করে চলাচল করছে। উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে বুলেট গতিতে চলছে এসব পরিবহন।

সংক্লিষ্ট প্রশাসন যদি এতে নজর না দেয় তা হলে যেকোন সময় এসব দানব পরিবহনের কারনে সড়কে মারাত্মক দুর্গঘটনায়
যে কারো পরিবারে নামতে পারে আহাজারী।

পথচারী মকবুল হোসেন জানান, সূর্যের আলো থাকার পরও রাস্তার আশপাশ এলাকায় কুয়াশার মতো ট্রাক্টরের সৃষ্ঠ ধুলোয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর ধুলোর মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশুসহ সব বয়সের মানুষেরা। অতি দ্রুত মানুষের জীবন অতিষ্ঠকারী এসব যন্ত্রদানব প্রতিরোধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সমাজের বিশিষ্টজনরা বলেন, এসব অবৈধ ট্রাক্টরগুলো গ্রামীন পাকা এবং কাচাঁ রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি করছে। আবার চরম ভাবে পরিবেশও দুষিত করছে। গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ এখন উন্নত বাংলাদেশের অংশিদার হতে উচ্চ শিক্ষায় শহরমূখী হচ্ছে। এসব অবৈধ যন্ত্রদানবগুলো রাস্তায় ধাপিয়ে বেড়ালে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের জীবন প্রদীপে আঘাত আসতে পারে যেকোন সময়। বিশেষ করে করোনাকালে, রোগবালাই অকালেই বাসা বাধবে শরীরে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

তবে এলাকাবাসীরা সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের কাছে অবৈধ পুকুর খনন ও ট্রাক্টর বন্ধের দাবী করে বলেন, আমরা বুঝতে পারি না, ফসলি জমি নষ্ট করে এত অবৈধ পুকুর খনন আর
ট্রাক্টর চলাচল বন্ধের কাজটি কেন এতো কঠিন। অবৈধ পুকুর খনন ও ট্রাক্টর চলাচলে এলাকার কতিপয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নেতারা যাদের স্বার্থরক্ষা হয়, তারা কি অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যুরোধে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ আদালত নিজের বিবেকের রায়ে সেই স্বার্থ জলাঞ্জলির কথা মোটেও ভাবতে পারেন না?( চলবে…..)

নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 nirviksangbad24.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin