দুর্গাপুরে জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের বাজার


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

দুর্গাপুর প্রতিনিধি : রাজশাহীর দুর্গাপুরে বাজার গুলতে খেজুর গুড়ের কেনাবেচায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। গুড়ের ব্যাপক আমদানি হচ্ছে ভালো মানের ও কাঙ্ক্ষিত দামে গুড় পেয়ে খুশী ক্রেতা, বিক্রেতা। দুর্গাপুর উপজেলা বরাবরই মাছের জন্য দেশ বিখ্যাত, সাথে আমেরও সুনাম কম নেই। বাড়তি এখন সুনাম যোগ করছে এ অঞ্চলের খেজুর গুড়। কৃষিনির্ভর এই উপজেলার মিস্টি খেজুর গুড়ের সুনাম দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। দুর্গাপুর বাজার ঘুরে জানাযায়, লালী-গুড় ৫০ থেকে সর্বচ্চ ৭০ টাকা ও বাটাল গুড় ৭০ থেকে সর্বচ্চ ৯০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। শীতের মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে মিস্টি রস সংগ্রহের পর অতিযত্নের সাথে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় খেজুর গুড়। এর মধ্যে লালী গুড়, বা বাটাল গুড় উল্লেখযোগ্য। উপজেলায় প্রায় ৩৬,৫৫২ খেজুর গাছ রয়েছে। এ থেকে বছরে প্রায় ৯৭৬ টন গুড় উৎপাদন করা হয়। প্রতি মৌসুমে ৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন হয় যা এখানকার অর্থনৈতিতে যথেষ্ট ভুমিকা রাখে।

শীতকালে এসব গাছ হয়ে ওঠে গাছিদের কর্মসংস্থানের উৎস। একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন। বর্তমানে রস সংগ্রহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার গাছির ব্যস্ত সময় কাটছে। প্রতি মৌসুমে খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। একেকজন কৃষক গাছের সংখ্যা অনুপাতে গাছি নিয়োগ করেন। তারা মৌসুম জুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। উপজেলার সিংগা গ্রামের গাছি আসাদ আলী জানায়, আমার নিজের গাছ কোনো গাছ নেই। মানুষের গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। একদিনের রস মালিকে দেই আরে-কদিনের রস আমি নেই। প্রতিদিন ৪৫ টি গাছের রস সংগ্রহ করি।

গুড় তৈরি করেই আমার সংসার চালাই। শীলের মৌসুমে বছরের ইনকামের অনেকটাই আসে। দুর্গাপুর বাজারের পাইকারী গুড় ক্রেতা আদ্বুল হাকিম জানায়, আমি গুড় ঢাকায় পাঠাই এই অঞ্চলের গুড় খুবই ভালো মানের হওয়ার কারণে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারদর ভালো হওয়ার কারণে আমার উভয়ে লাভবান হচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মশিউর রহমান জানান, এ অঞ্চলের খেজুর গুড়ের মান খুবই ভালো। সেই কারণেই দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রশ সংরক্ষণ ও সঠিক ভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে আরও উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাবে।

Total view = 167