• রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন



দুর্গাপুরে পানচাষ ভালো হলেও করোনাকালে নেই দাম

Reporter Name / ৪৮৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাকালে বাজারে পান নিয়েও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এ অবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। পানচাষিরা বলছেন, এবার পানচাষ ভালো হলেও দাম না থাকায় পান চাষে প্রত্যেককেই লোকসানের হিসাব করতে হবে।

অথচ এবার পানের উৎপাদন ভালো ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বেচাকেনা সীমিত হওয়ায় প্রথমেই তারা লোকসানের মুখে পড়েন। টানা লকডাউনের কারনে তাদের পুরো পান বরজেই নষ্ট হতে বসেছে। তাই বাধ্য হয়েই কম মূল্যই বাজারে পান বিক্রি করতে হচ্ছে।

কিন্তু লোকশানের মুখে পানচাষীদের জন্য করোনাকালে কোন ভর্তুকি সুবিধা রয়েছে কিনা তা বলতে পারছে না কৃষিবিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাঁচ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পান বরজ রয়েছে। এসব পান বরজ জেলার দুর্গাপুর,বাগমারা, ও মোহনপুর
উপজেলায়। এবার পান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন। গড়ে ৪০ টাকা বিড়া ধরে এক টন পানের দাম দাঁড়ায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। রাজশাহীতে বছরে গড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার পান বেচাকেনা হয়। পান চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন ৬০ হাজার ৩১২ জন কৃষক।

পানচাষিরা জানিয়েছেন, করোনার কারণেই পানের দাম কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ৩২ বিড়া (৬৪টি পানে ১ বিড়া) পান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। অথচ গত বছর বর্ষা মৌসুমে ৩ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এবার এত কম দামে পান বিক্রি হলে পানচাষীদের লস হবে।

দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের চাষি রফিক জানান, এক বিঘা জমিতে একটি পান বরজে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়। বাজার ভালো হলে খরচসহ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার পান বিক্রি করা যায়। কিন্তু এবার করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

শ্যমপুর গ্রামের পানচাষি মিজান জানান, এক বিড়া পান গত বছর এ সময়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে। সেই পান এখন বিক্রি হচ্ছে বিড়াপ্রতি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে। আর ছোট যে পান ৫০ টাকা বিড়া দরে বিক্রি হয়েছে, সে পান বিক্রি হচ্ছে বিড়া প্রতি দুই টাকা দরে। পান বিক্রি করে লেবারের খরচটাই উঠছে না।

আরেক পানচাষি রইচ বলেন, পান ভেঙে বাজারে তুললেও নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালে দোকানপাটে পান বিক্রি কমে আসায় কমে গেছে চাহিদা।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন ,করনাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমরা জানিয়েছি স্বাস্থ্য বিধি মেনে যেন পানচাষীরা পান বিক্রি করতে পারে। আর ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষীদের জন্য সরকারি কোন ভর্তুকি নেই, আমরা বিষয়টি নিয়ে সহায়তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কৃষি বিভাগকে জানিয়েছি।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category