বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন

পর্ব-১: এক গরু চোরের ছেলের কথিত সাংবাদিক হয়ে উঠার আত্মকাহিনী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৮৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি: বাবা ছিলেন এলাকার কুখ্যাত গরু চোর। বড় ভাই ছিলেন ডাকাত দলের সর্দার। সে নিজেও ছিলো সর্বহারা ও চরমপন্থী দলের সদস্য। এভাবেই চলছিলো বাবা-ভাইকে নিয়ে তার ত্রাসের রাজত্ব। হঠাৎ ভোল পাল্টে হয়েছেন কথিত সাংবাদিক। নামসর্বস্ব অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক সেজে প্রতারনা জাল বিছিয়েছেন অল্প দিনেই। অন্ধকার জগতের মেয়েদের অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক বানিয়ে সমাজের সম্ভ্রান্ত মানুষদের ব্ল্যাক মেইল করাই ছিলো তার অবৈধ আয়ের একমাত্র উৎস্। এভাবে নানা অপকর্ম করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদাবাজি, রাতের আঁধারে গরু চুরি, সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রাতের বেলা ডাকাতি ও পতিতা লেলিয়ে দিয়ে মানুষের ছবি তুলে চাঁদা চাওয়া ছিলো তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। একের পর এক অপকর্ম করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে অসংখ্য। গ্রেফতার এড়াতে দির্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন পাবনায়। হঠাৎ রাজশাহী শহরে বসতি গেড়েছেন এই কথিত সাংবাদিক। তবে পূর্বের ন্যায় তার অপকর্ম গুলো এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ওই কথিত সাংবাদিক। কথিত ওই সাংবাদিকের নাম এমদাদুল হক ওরফে এন্দা চোর। তার বাবা মৃত এব্রাহিম আলী ওরফে এব্রা চোর। তার বড়ভাই রেজাউল ওরফে রেজা চোর। পুরো পরিবারের সদস্য যেখানে চুরি আর চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ত। এই চোর পরিবারের কাহিনী দুর্গাপুরবাসী জানে। সে কিভাবে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে পারে তা জানতে চায় এই প্রজন্ম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার এক কুখ্যাত পরিবারে জন্ম নেয়া ওই কথিত সাংবাদিক পাবনা পালিয়ে থেকে সর্বহারা চরমপন্থী দলের সাথে মিশে চাঁদাবাজি পেশার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দুর্গাপুরে বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ী রাজশাহী শহরের উপশহরে বসবাস করতেন। তার বাড়িতে গিয়ে চাঁদা চেয়েছিলেন। যার ভিডিও ফুটেজ এখনো সংরক্ষনে রেখেছেন ওই ব্যবসায়ী পরিবারের লোকজন। পরে ওই ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়িতেই আবার রাতের আঁধারে ডাকাতি করেন এই এন্দা চোর। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মামলাও দায়ের করেন।

পাবনায় থাকাকালীন চুরির অভিযোগে গণপিটুনি খেয়ে পাবনা ছেড়ে রাজশাহীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাজশাহীতে অবস্থান নিয়ে আগের মতোই চুরি, চাঁদাবাজির মতো ঘটনার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। এক স্কুল শিক্ষিকার কাছে চাঁদা চাইতে গিয়ে ওই স্কুল শিক্ষিকার বাড়ি থেকেই এন্দা চোরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিলো মতিহার থানার পুলিশ। রেলওয়ের এক নারী কর্মচারী কাছে চাঁদা চাইতে গিয়ে ওই নারীর স্বামী রফিকের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন কথিত সাংবাদিক এন্দা চোর। পরে কথিত সাংবাদিককে গণপিটুনি দেন শিরোইল রেলওয়ে কলোনীর লোকজন। রেলওয়ের টেন্ডারবাজীর বিষয়ে নিউজ করার হুমকী দিয়ে নগরীর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন এই এন্দা চোর। পরে সেখানেও তাকে গণপটিুনি দেয়া হয়। যা পুরো রাজশাহীর মুলধারার গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা জানেন।



বাণেশ্বর এলাকার এক ব্যাবসায়ীর সাথে প্রতারনা করেন এই এন্দা চোর। কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন এই এন্দা চোর। মাদক বহন করতে কিনেন প্রাইভেট কার। প্রাইভেট কারে মাদক বহন করতে গিয়ে চোরাই গাড়ি কেনাবেচার জড়িত হয় এন্দা চোর। কয়েকদিন আগে কাঁঠালবাড়িয়া শহীদ আবুল কাশেম স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রভাষক শারমিন আহম্মেদ পলির কাছেও একটি চোরাই প্রাইভেট কার বিক্রি করেন এই এন্দা চোর। পরে দুর্গাপুর থানায় জিডি করেন শারমিন পলি। এ ঘটনার কয়েকদিন পর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের মধ্যস্ততায় কিছু টাকা শারমিন পলিকে ফেরত দেয়া হলে এন্দা চোরকে গাড়িটি ফেরত দেন শারমিন পলি।

জানতে চাইলে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মন্ডল বলেন, ঘটনা সত্যি। ২ লাখ টাকার বিণিময়ে এমদাদের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছিলেন পলি। পরে কাগজপত্র না থাকায় এমদাদকে গাড়িটি ফেরত দেয়া হলে পলিকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেয় এমদাদ। এ নিয়ে থানায় জিডিও করেছিলো পলি।

আরো জানা গেছে, এই কথিত সাংবাদিক এন্দা চোরের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো লোমহর্ষক অভিযোগ। সাংবাদিকতার আড়ালে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চাঁদাবাজি, রাতের বেলা অস্ত্র ঠেকিয়ে গাড়ি ছিনতাই সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত সে। সাংবাদিকতার মতো মহান এই পেশায় তার ভাই রেজাউল চোরকেও এনেছেন। এ যেন চোরের সাক্ষী গ্যাঁট কাটার মতো। জ্যান্ত গুরুর গা থেকে চামড়া খুলে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই রেজাউল চোর। কয়েকদিন আগে ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার হয়েছিলেন এই রেজাউল চোর।

কিছুদিন আগে রাজশাহীর কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী এই এন্দা চোরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাদের প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছিলেন এই এন্দা চোর। পরে ওই সাংবাদিকরা দুর্গাপুর ও পুঠিয়া থানায় জিডি করেছেন।


ইসরাত ময়না নামের এক নারী সাথে প্রতারনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই নারীও এন্দা চোরের বিরুদ্ধে রাজশাহীর আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলা গুলো এখনো বিচারাধীন আছে বলে জানা গেছে। থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই এন্দা চোরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৮/১০টি মামলা রয়েছে। তার ভাই রেজা চোরের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ১২ টি মামলা।

এন্দা চোরের বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুরের একাধিক ব্যাক্তি জানান, তার বাবা এব্রা ছিলেন এলাকার কুখ্যাত গরু চোর। এ জন্য সবাই তাকে এব্রা চোর বলে ডাকে। প্রকাশ্যে এব্রা চোরকে গাছের সাথে বেঁধে পেটানো হয়েছে। তার বড় ভাই রেজা চোর জ্যান্ত গরু জবাই করে গরুর গায়ের খাল ছিলে চুরি করে বিক্রির অভিযোগ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিলো।

কিন্তু উত্তেজিত জনতা পুলিশী পাহারায় থাকা রেজা চোরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলো। এই চোর পরিবারের সন্তানরা কিভাবে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে বিতর্কিত করছে তা কিছুতেই বোধগোম্য নয়। এ কুখ্যাত পরিবারের সন্তানদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দুর্গাপুরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।( চলবে….)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 nirviksangbad24.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin