• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন



পর্ব-২: কুখ্যাত গরু চোরের ছেলের বিলাসী জীবন চলে চাঁদাবাজিতে

Reporter Name / ৪৮১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কথিত কার্ডধারী সাংবাদিকতার আড়ালে প্রতারক দুই-ভাই নিরীহ মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে অনেককে করেছেন সর্বশান্ত। তাদের সাঙ্গ পাঙ্গদের শিখিয়েছে চাঁদাবাজির ধরন ও কৌশল। রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন ইটভাটা,পুকুরসহ কারখানার মালিকদের চাঁদার জন্য হুমকি দেন এমন ঘটনা অহরহ ঘটিয়েছে। বড় ক্যামেরা ও চোরাই (কার) গাড়িতে সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন দলবেঁধে । চলতি মৌসুমে এমন অর্ধশতাধিক অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে, কুখ্যাত গরুচোরের প্রতারক দুই ছেলে এন্দা চোর ও রেজা চোরের বিরুদ্ধে। এলাকায় বাপ-ছেলের অপকর্মের অজানা তথ্য শুনলে নবীন-প্রবিনদের অনেকের গা শিওড়ে উঠে। তবে বর্তমান সময়ের কথিত সাংবাদিকের সাইনবোর্ডের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি তাদের মুল পেশা।

এদের পরিচিতিঃ ইব্রাহিম ওরফে (এব্রাচোর) ছিলেন আন্তজেলা কুখ্যাত গরুচোর চক্রের লিডার। বাড়ি চক কৃষ্ণপুর (সুখানদিঘি) দুর্গাপুর, রাজশাহী। তার বড় ছেলে রেজাউল ওরফে রেজাচোরাঃ চুরি, ডাকাতি, ছিন্তাই, জালটাকা, প্রতারনা ও মাদকসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় দেড়-ডজন মামলা। বর্তমানে সে (ইউটিউব) ভিক্তিক কথিত “আরডি” টিভির মালিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছেন কয়েকটি জেলায়। ছোট ভাই এন্দাচোরের হাত ধরেই সাম্বাদিক বনে তিনি। সে বর্তমানে রাজশাহীর মহানগরীর ছোটবন গ্রাম এলাকায় ভাড়াটিয়া।
ছোট ছেলে এন্দাচোরাঃ নিজেকে দাবি করেন ১৭ বছরের তার কথিত সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার। ভোল পালটিয়ে হয়েছেন কথিত সাম্বাদিক ইমদাদুল হক। রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় এই প্রতারকের বিরুদ্ধে রয়েছে হাফ-ডজন মামলা চলমান। এছাড়াও ১৪ থানায় প্রায় দেড়-ডজন সাধারন ডাইরি করেছেন ভুক্তভোগীরা। বেতন নাই তার বিলাসীতা জীবন চলে চাঁদাবাজির টাকায়। তার চাঁদাবাজি ও অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন বিদেশ ফেরত শ্রমিক, কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রতারক কিছু নারীচক্র। এই প্রতারক এন্দাচোরার চাঁদাবাজি ও অপকর্মের জন্য রয়েছেন বড় ক্যামেরা ও সরকারের ১০ বছরের (কর) ফাঁকি দেওয়া চট্র মেট্রো ০২ মডেলের কার গাড়ী। কথিত সাংবাদিকের সাইনবোর্ডের আড়ালে এই প্রতারক পদ্মা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্রঃ কুখ্যাত গরু চোর ইব্রাহিম ওরফে এব্রাচোরা তিনি ছিলেন আন্তজেলা গরুচোর চক্রের লিডার। চোরদলের সক্রিয় সদস্যরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুরির গরু-মহিষ রাখতেন লিডার এব্রা চোরের সুখানদিঘির বাড়িতে। ওইসময় বড় হাসুয়া হাতে দিয়ে দুই প্রতারক ছেলে এন্দা ও রেজা চোর দরজায় পাহারা দিতো। আর বলতেন বেটা পশুর খোঁজে যে আসুক আসলে কোপ বসিয়ে দিবি পরে দেখা যাবে । বাপ-ছেলের অপকর্ম ও নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার দুইটি হালের গরু ছিল সন্ধ্যায় খাবার খাইয়ে গোয়াল ঘরে রেখে আসেন। ভোররাতে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখে দুইটি গরু গোয়ালঘর থেকে চুরি হয়েগেছে । পরে খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন গরুগুলো সুখানদিঘি গ্রামের এব্রার বাড়িতে আছে । তাদের বাড়িতে যাওয়ার পরে কিছু বুঝে উঠার আগেই এব্রা চোরের দুই ছেলে রেজা চোর ও এন্দা চোর মারধর করেন। হাসুয়া বের বলে চলে যা তা না হলে গলা কেটে নামিয়ে দিবো। পরে প্রানের ভয়ে পালিয়ে আসেন জানান তিনি। এভাবেই চলতে থাকে বাপ ছেলেদের অপকর্মের রাজত্ব। ২০০০ সালের শুরুতে চৌবাড়িয়া গ্রাম থেকে চুরির ঘটনায় ৩টি গরুসহ এব্রাচোরসহ দুই প্রতারক ছেলেকে আটক করেন গ্রামবাসি। এরপর দুর্গাপুরের নার্গিস সিনেমা হলের মাঠে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন এব্রা ও রেজাকে। বর্তমান সময়ের আলোচিত প্রতারক নামসর্বস্ব অনলাইন নামধারী কথিত সম্পাদক ইমদাদুল হক ওরফে এন্দা চোরা গণপিটুনির সময় কৌশলে পালিয়ে যায়। ওই মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে তার বড় ভাই রেজা আত্মগোপনে থাকেন দীর্ঘদিন । এরপর তাদের বাবা এব্রা পড়েন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী।
আরো জানাযায়, তৎকালীন সময়ে প্রতারক ইমদাদুল ওরফে এন্দা চোরা পালিয়ে পাবনায় তার দুলাভাইয়ের বাসায় আত্নগোপন করেন। সেখানে থাকাকালীন সময় সর্বহারা (এলএমএল) লাল পতাকা পার্টির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। ওই পরিচয় ব্যবহার করে সে দুর্গাপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুন নবীর কাছে কারাগারে থাকা সর্বহারা সদস্যদের জামিন করবে বলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। মরহুম নুরুন নবীর ছোট দুইভাই সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
এন্দাচোরা থেকে কথিত ইমদাদুল হক হলেন যেভাবেঃ এলাকার কুখ্যাত গরু চোরের প্রতারক ছেলে বর্তমান কালের কথিত সম্পাদক ইমদাদুল হক। তার গরু বাবার হাতেখড়ি শিখিয়েছেন ডাকাতি বিদ্যা। ২০০৭ সালের অক্টোবরে দুর্গাপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম নুরুন নবীর বাড়িতে ডাকাতি মামলার অন্যতম আসামি কথিত সম্পাদক প্রতারক ইমদাদুল ও বড় ভাই রেজাউলসহ আরো কয়েকজন।

দুর্গাপুর থানার মামলা নং০৮ তারিখ ২০-১০-০৭ইং। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে পরে কারাগারে প্রেরন করেন । জামিনে বের হয়ে আবারো শুরু করেন এন্দা চোর কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিনব কৌশল। ২০১০ সালে মাইটিভি সম্প্রচারে যাওয়ার আগে ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে দুর্গাপুর থেকে রাজশাহী শহরে ছুটে যাচ্ছিলেন চাঁদাবাজির জন্য। বিষয়টি নজরে আসে রাজশাহীতে কর্মরত মুলধারার সাংবাদিকদের। ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজির সত্যতা মিলে পরে কথিত চাঁদাবাজ এন্দা চোর নিজের ইচ্ছায় কান ধরে উঠবোশ করে পার পেয়ে যান সেখান থেকে। ২০১১ সালের শুরুর দিকে ঢাকার আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে রাজশাহী রেল স্টেশনে অবাধে চলাচল শুরু করেন।

এরই সুবাদে প্রতারনার জাল বিছিয়ে স্টেশনের অপেক্ষামান বিপদগামী নারীদের টার্গেট করতেন আর হাতিয়ে নিতেন স্বর্ণালঙ্কার। এভাবেই চলতে থাকে তার কু-কর্মের রাজত্ব । এছাড়া ২ ০১৩ সালে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনি দিয়ে আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানায় পুলিশে সোপর্দ করেন উত্তেজিত জনতা। বোয়ালিয়া থানার মামলা নং ২৬ তারিখ ২২/০১/২০১৩ ইং
দুর্গাপুর থানার মামলা নং০৮ তারিখ ২০-১০-০৭ইং। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে পরে কারাগারে প্রেরন করেন । জামিনে বের হয়ে আবারো শুরু করেন এন্দা চোর কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিনব কৌশল।

২০১০ সালে মাইটিভি সম্প্রচারে যাওয়ার আগে ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে দুর্গাপুর থেকে রাজশাহী শহরে ছুটে যাচ্ছিলেন চাঁদাবাজির জন্য। বিষয়টি নজরে আসে রাজশাহীতে কর্মরত মুলধারার সাংবাদিকদের। ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজির সত্যতা মিলে পরে কথিত চাঁদাবাজ এন্দা চোর নিজের ইচ্ছায় কান ধরে উঠবোশ করে পার পেয়ে যান সেখান থেকে। ২০১১ সালের শুরুর দিকে ঢাকার আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে রাজশাহী রেল স্টেশনে অবাধে চলাচল শুরু করেন । এরই সুবাদে প্রতারনার জাল বিছিয়ে স্টেশনের অপেক্ষামান বিপদগামী নারীদের টার্গেট করতেন আর হাতিয়ে নিতেন স্বর্ণালঙ্কার। এভাবেই চলতে থাকে তার কু-কর্মের রাজত্ব । এছাড়া ২ ০১৩ সালে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনি দিয়ে আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানায় পুলিশে সোপর্দ করেন উত্তেজিত জনতা। বোয়ালিয়া থানার মামলা নং ২৬ তারিখ ২২/০১/২০১৩ ইং।
কথিত সম্পাদক ইমদাদুলের”প্রতারনা”ভুক্তভোগীদের বক্তব্যঃ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়ার রকি হত্যা মামলার পিবিআই তদন্ত রিপোর্ট থেকে আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন ৮৫ হাজার টাকা। ভুক্তভোগী গ্রাম্য ডাঃ আইয়ুব আলী বলেন, আমি ইমদাদের ব্যবহৃত ০১৭২৮-৮৮৩৫২২ নাম্বারে বিকাশে মাধ্যমে টাকাগুলো পাঠিয়েছি। এখন ইমদাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করবে বলে ভয় দেখান।

২০২০ সালে হাইকোর্টে জামিন করার নামে চারঘাট উপজেলার শলুয়ায় আসামির মামা মজনুর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন দেড় লাখ টাকা। আসামির জামিন না করেই টাকা নিয়ে সটকে প্রতারক ইমদাদ। বিকাশের জন্য ব্যবহার হয়েছে প্রতারক ইমদাদের ওই একই নাম্বার। ভুক্তভোগী মজনু জানান, জামিন করতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় ইমদাদ ।

প্রশাসনের বরাত দিয়ে এক কর্মকর্তা জানান:ইমদাদুল ও তার বড়ভাই রেজাউল দুর্গাপুরের তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী। তারা গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছেন। গতিবিধি অনুযায়ী যেকোন সময় আইনের আওতায় এনে মুখোশ খুলে দেওয়া হবে।

রাজশাহীর সিনিয়র সাংবাদিকদের অনেকে বলছেন, চাঁদাবাজির টাকায় বিলাসী জীবন কাটানো প্রতারকদের লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়। তারা বলেন, ভুলের ক্ষমা হয় কিন্তু অপরাধীর ক্ষমা নয়। তাই এসব ভুঁইফোড় কথিত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই সাংবাদিকতার মত মহান পেশাটি কলঙ্ক মুক্ত হবে।

দুর্গাপুরের কুখ্যাত গরু চোরের ছেলে কথিত সম্পাদক ইমদাদ ও রেজাউল কে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। চলবে……




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category