মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই দেশ উন্নত হতো: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ Time View

নির্ভীক সংবাদ ডেস্ক: জাতীয় সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর আলোচনার জন্য সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বেঁচে থাকলে অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো বাংলাদেশ।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেখ হাসিনা। এরপর ওই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

প্রস্তাব উত্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, একটি জাতিকে আত্মপরিচয় দেওয়া এটি কঠিন কাজ। বঙ্গবন্ধু সেটা করেছেন। আর এটা করতে গিয়ে তাকে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে পাকিস্তানিদের কি অবদান ছিল জানি না। তবে পূর্ববঙ্গের মানুষের বড় অবদান ছিলো। কিন্তু সেই পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ববঙ্গের মানুষের ওপরই নির্যাতন নেমে আসে। বঙ্গবন্ধু তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। জাতির পিতা সব সময় মানুষের জন্য চিন্তা করতেন। পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার ৭/৮ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে তিনবার গ্রেফতার করা হয়। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ৬ দফা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার সমর্থনে যেখানেই বক্তব্য দিতে গেছেন সেখানেই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রধনমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। দুর্ভাগ্য আমাদের ৭৫ এর ১৫ আগস্ট যদি না ঘটতো তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো। এক সময় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামও মুছে ফেলা হয়েছিলো। এতো কষ্ট করে যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন। সেই স্বাধীন দেশটা যখন তিনি গড়ে তুলছিলেন তখনই তাকে হত্যা করা হয়।

আবেগ আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের কারাগারে তাকে এতো নির্যাতন করা হতো সেটা তিনি আমাদের বলেননি। আমার ছোট বোন রেহানা প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতো, তিনি বলতেন তুই সহ্য করতে পারবি না, জানার দরকার নেই। বঙ্গবন্ধুকে শুধু রাষ্ট্রপতি হিসেবে হত্যা করা হয়নি, পরিবারের সব সদস্যকে হতাা করা হয়। আমার ছোট ভাইটিও রেহাই পায়নি। আমরা বিদেশে ছিলাম তাই বেঁচে গিয়েছিলাম।

সংসদে উত্থাপিত লিখিত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের অভিমত এই যে, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙালির অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্ত অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা, ১৯৬৮ এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন – দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্র কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার নিরস্ত্র জনগণ ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ মহান শহীদ ও ২ লাখ মা বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। লাল সবুজের পতাকা ও সংবিধান। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কালে বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মময় জীবন ও দর্শনের ওপর জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হউক।

প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাবটি নিয়ে টানা চার দিন আলোচনা শেষে আগামী বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে গ্রহণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে (মুজিববর্ষ-২০২০) স্মরণীয় করে রাখতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত রোববার জাতীয় সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নিজের একটা আত্মবিশ্বাস ছিল কারণ এই বাঙালি জাতিকে নিয়েই তো তিনি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে স্বাধীনতা এনেছে। কাজেই সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চলতেন। কিন্তু আমাদের সব থেকে দুর্ভাগ্যে বার বার গ্রেফতার করেছেন কারাগারে ছিলেন আমরা তো সন্তান হিসেবে একটানা দুই বছরও বাবার স্নেহ ভালোবাসা পাইনি। দেখা হয়েছিল বন্দী খানায়।

তিনি বলেন, ইতিহাস আসলে মুছে ফেলা যায় না ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। আজকে সেই নাম আর কেউ মুছতে পারবে না ইতিহাস আর কেউ মুছতে পারবে না এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এটা সৌভাগ্য ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি এই পার্লামেন্টে আমরা আছি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি মনে করি আল্লাহ মানুষকে একটা কাজ দেয় সেই কাজ না শেষ হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ রক্ষা করেন। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই তার যে আদর্শ প্রতিটি কথা প্রতিটি লাইন আমাদের জন্য যে কত গুরুত্বপূর্ণ কতটা শেখার।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 nirviksangbad24.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin