বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান দেলশাদ আর নেই


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ আগস্ট, ২০২০

স্টাফ রির্পোটার: রাজশাহীর জেলার প্রথম দুর্গাপুর উপজেলার দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা দেলশাদ আলী দেওয়ান (৭২) মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহী ওয়া…..রাজেউন।

তিনি বার্ধ্যকজনিত কারণে (২৭আগস্ট) বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। তাঁর বাড়ী দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ঠিক ওই সময়ে দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন দেলশাদ। এ কারণে এলাকায় তাকে শেখ সাহেবের চেয়ারম্যান বলে ডাকেন। মৃত্যুর আগে তিনি দুর্গাপুরের হাট কানপাড়া বাজারে রেডিও এবং টেলিভিশন মেরামতের কাজ করতেন।

জানা গেছে, তিনি ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর রাজনীতিতে আরো বেশি সক্রিয় হোন এবং দুর্গাপুরের দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেন। এরপর উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়া ও রাজশাহী জেলার মাত্র দুইটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নে ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। নির্বাচনে পাশ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন তিনি। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সাথে নাটোর গণভবনে একাধিকবার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সদস্য এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সাথে দলীয় সভায় একাধিকবার অংশ নিয়েছেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আসীন হোন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে গেলে তিনিও আত্মগোপনে যান। পরবর্তিতে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ ১২টি মামলা হয়। মামলার ঘানি টানতে গিয়ে তাকে সহায় সম্বল হারাতে হয়। এ কারনে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে তিনি শেষ জীবনে বেছে নিয়ে ছিলেন রেডিও টেলিভিশন মেরামতের কাজ।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ ও ২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও এই তার কেউ খোঁজ নেননি দেলশাদ আলীর। চাটুকার ও হাইব্রীডদের চাপে তিনি এখন অনেকটাই কোনঠাসা ছিলেন। নির্বাচন আসলেই কেবল তার কদর বাড়তো। নির্বাচন পার হলে তার খোঁজ কেউ রাখতেন না। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ৪ ছেলে ও ৬ মেয়ের জনক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি তৎকালীন বখতিয়ারপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন।

এদিকে, তাঁর মুত্যৃতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান, সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রেন্টু।
নির্ভীক সংবাদ24ডটকম

Total view = 291