ভারি অস্ত্র বাংলাদেশের দিকে তাক করল মায়ানমার


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নির্ভীক সংবাদ24ডেস্ক: বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের ওপারে হঠাৎ করে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মায়ানমার। এতে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। হঠাত করে কেন সীমান্তের ওপারে এত মায়ানমার সেনা! তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও এই ঘটনার পর মায়ানমার সীমান্তের দিকে কড়া নজর রাখছে বাংলাদেশ।

জানা যাচ্ছে, বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু-বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকাজুড়ে একাধিক বাঙ্কার বানিয়েছে মায়ানমার। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি করা হয়েছে সেনা ছাউনিও। যা রীতিমত সীমান্তের লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, আতঙ্কের কিছু নেই। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে তারা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সরেজমিন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেছে। তাঁদের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু-ভাজাবনিয়া, মগপাড়া, বাইশফাঁড়ি সীমান্তের ওপারে বিশাল এলাকাজুড়ে অসংখ্য বাঙ্কার এবং চৌকি বানিয়েছেন মায়ানমার।

সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ভারি অস্ত্র বাংলাদেশের দিকে তাক করে বসানো হয়েছে। রাতে মাঝে মধ্যেই মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের ঘুমধুম ভাজাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ছৈয়দ হোসেন জানান, তিনি বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করেন সীমান্তের একদম কাছাকাছি স্থানে। তার মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরে বাঙ্কার ও চৌকি স্থাপন করেছে মায়ানমারের বিজিপির সদস্যরা। তিনি বলেন, রাতে তারা অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে থাকে সীমান্তজুড়ে।

এতে তারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। একই কথা আকতার উদ্দিন ও হোসেন আহমদসহ অসংখ্য স্থানীয়র। তারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে হঠাৎ সীমান্তের ওপারে অনেক লোকজন দেখা যাচ্ছে, তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক।

তারা আরও জানান, সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, বিজিপি টহল জোরদার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারি যান নিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্তে যাতায়াত করছে মায়ানমার বিজিপি ও সেনা সদস্যরা। শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গারা জানান, সকাল থেকে সাতটি ট্রাকে করে মায়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তুমব্রু সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অস্ত্র নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে।

সীমান্তের বেড়া বরাবর বাঙ্কারগুলোতেও অবস্থান নিয়েছে মায়ানমার সেনারাও। সেনাদের সঙ্গে তাদের সীমান্ত রক্ষী পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরাও রয়েছে বলে তারা জানান। তুমব্রু শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মায়ানমার সেনারা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মর্টারসহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে ঘাঁটি তৈরি করেছে।

তাদের সঙ্গে বিজিপির সদস্যদেরও দেখা যাচ্ছে। এতে শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সীমান্তের এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, সীমান্ত এলাকায় মায়ানমার বিজিপির অতিরিক্ত সদস্যের অবস্থান সম্পর্কে অবগত রয়েছি। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই, সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।
নির্ভীক সংবাদ24 ডটকম

Total view = 250