• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন



মে দিবসে বিপন্ন জীবন ও জীবিকা

Reporter Name / ১১৭ Time View
Update : শনিবার, ১ মে, ২০২১



নির্ভীক সংবাদ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সময় প্রাকৃতিক কারণেই বিশ্বজুড়ে বসন্তকাল বিরাজ করে। বিশ্বব্যাপী এবার ও গত বছর শ্রমিক দিবস হয়েছে করোনাকালে। ফলে বিপ্লবের তপ্ত ইতিহাস, বসন্তের হিন্দোল নয়, শ্রমজীবী মানুষের সামনে ছিল করোনার আগ্রাসনের কারণে বিপন্ন জীবন আর জীবিকার প্রসঙ্গ।

করোনার তীব্রতার কারণে লকডাউন, কারফিউ ও অন্যবিধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রথম ও প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রমিক শ্রেণি। তাদের চাকরি চলে যায়। তারা অকাতরে কর্মচ্যুত হন। বিশেষত, প্রবাসী বা অভিবাসী লক্ষ লক্ষ শ্রমশক্তি দেশে-বিদেশে, পথে-প্রান্তরে আটকে পড়েন। করোনার দুটি বছর অবর্ণনীয় কষ্ট আর সীমাহীন আর্থিক বিপদের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন শ্রমিক শ্রেণি।

ইউরোপ, আমেরিকায় করোনার ফলে মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের বিপদ হয়েছে বেশি। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকায় সর্বাপেক্ষা বিপদগ্রস্ত হয়েছেন কর্মী ও শ্রমিকরা। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এই সমস্যা রয়েছে তীব্রতর। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসূত্রে অবস্থান করেন। তারা চাকরি হারিয়েছেন। ভিসা বা বিমান চলাচল সমস্যায় আটকে গিয়ে সব হারিয়েছেন।

দেশের মধ্যেও এক রাজ্য বা এক স্থান থেকে কর্মহীন হয়ে শ্রমিকরা লকডাউনের চলাচল করেছেন। করোনায় মারা গেছেন বা করোনা ছড়িয়েছেন। ভারতে মাইগ্রেট শ্রমিকদের সমস্যা ভয়ঙ্করতম আকারে দেখা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতে প্রবল করোনা বিস্তারের পেছনে সরকারের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও শ্রমনীতিকে দায়ী করেছে। বলেছে, ভারত সরকারের করোনার মধ্যে নির্বাচনী উৎসবে মেতেছিল। হিন্দু ধর্মের কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশ করেছে। শ্রমজীবী মানুষকে আগাম না জানিয়ে গত বছর,অকস্মাৎ লকডাউন দিয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পায়ে হেঁটে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যের বাড়িতে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে পথে পথে বহুজন যেমন মারা গেছে, তেমনি তাদের মাধ্যমে গোচরে-অগোচরে করোনা ছড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা লকডাউন তুলে দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় সভা-সমাবেশ করেছেন। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী, শ্রমজীবী, দিনমজুর শ্রেণির মানুষ করোনার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পতিত হয়েছেন।

ফলে চলমান করোনা পেন্ডেমিকের সঙ্কুল পরিস্থিতিতে পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ইতিহাসের পুনরুচ্চারণ ও স্মৃতি তর্পণের বদলে বর্তমান বিপদ উত্তরণের বিষয় সর্বাধিক মনোযোগী হতে হবে। বিপন্ন মানুষকে একদিকে যেমন মহামারির কবল থেকে তাদের জীবন বাঁচাতে হবে, অন্যদিকে তেমনিভাবে তাদের আহারের সংস্থান করে জীবিকাকেও রক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকার সমস্যা সমাধানের বিষয়টিই করোনাকালের  পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের মূল দাবি।

ফলে মে দিবসে সারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা শ্রমিক দিবস হিসেবেও পালিত হওয়ার সময় অতীতের অর্জনের দিকে তাকানোর পাশাপাশি বর্তমানোর চলমান বিপদকে দূর করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।  এই দিনটিতে পৃথিবী জুড়ে শ্রমিকদের অবদান এবং ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্মরণের সময় আজকের করোনাকালে তাদের বিপন্ন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category