• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন



রাজশাহীর দুর্গাপুরে এই প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন চালু

Reporter Name / ৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদক,দুর্গাপুর: সৃষ্টির সময়কাল থেকে চলে আসছে—নারী সন্তান গর্ভধারণ করবেন, নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম দেবেন। শারীরিক গঠনপ্রণালির মধ্যেই সেই রহস্য রয়ে গেছে, অর্থাৎ কীভাবে সন্তানের জন্ম হবে। দেশ-কাল-পাত্রভেদে যুগে যুগে এই ধারাকে বহন করে নারী তাঁর এই মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন অথবা নানা রকমের জটিলতা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশের নারীর শারীরিক গঠন এক রকমের নয়, সেই কারণে সব দেশের জটিলতাও এক রকমের নয়। তবু জটিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য স্বাভাবিক প্রসবের বাইরে বিজ্ঞান একটি অন্য পথ বের করতে সক্ষম হয়েছে। এটি নারীকে জীবনের জটিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য, তাঁকে জটিলতায় ফেলার জন্য নয়। এই পদ্ধতিকে সিজারিয়ান বলে। রাজশাহীর দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ এই প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন চালু হলো।

১১ ( মার্চ) বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছিয়া বেগম নামের এক নারীর সিজারিয়ানের মধ্যে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবা খাতুন।

আছিয়া বেগমের বাড়ি উপজেলার পানানগর গ্রামে। প্রথম সিজারিয়ান হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছিয়া ও তার সন্তানকে দেখতে আসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গর্ভবতী এক অসহায় নারীকে নিজ খরচে সিজারিয়ান অপারেশন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম সিজারিয়ান ব্যবস্থা চালু হল। এতে করে অসহায়, দরিদ্র ও গর্ভবতী নারীদের জেলা পর্যায়ে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অল্প খরচে সিজারিয়ান করানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার পানানগর গ্রামের রুবেলের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৩৫) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। অপারেশন থিয়েটারের টিমে ছিলেন গাইনী কনসালটেন্ট ডা. হামিদা পারভীন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরওম) ডা. মেহেদী হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. অশোক কুমার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবা খাতুন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবা খাতুন জানান, এখন থেকে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে। যে সব মা বোনেরা টাকার জন্য সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারেনা আমরা বিনামূল্যে তা করে দিব। তিনি আরও বলেন, আমাদের হাসপাতালে অজ্ঞান (অবস) ডাক্তার নেই। বাহির থেকে নিয়ে প্রথম সিজারিয়ান করা হলো। এ বিষয়ে আমরা সির্ভিল সার্জন মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। হয়তোবা আগামীতে আমরা অজ্ঞান (অবস) ডাক্তার পাবো। তাহলে আমাদের কাজের পরিধি আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক অসহায় নারীর সিজারিয়ান মধ্যে দিয়ে এক মাইল ফলকের সৃষ্টি হলো। এ জন্য তিনি নবাগত টিএইচও’র ভূয়াসী প্রসংসা করেন। তিনি বলেন, তার প্রচেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ধারা অব্যহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category