• শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন



রাজশাহীর দুর্গাপুরে করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর প্রশাসন

Reporter Name / ৩৪৬ Time View
Update : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কঠোর হচ্ছে দুর্গাপুরের প্রশাসন। নতুন করে দেওয়া কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য নড়ে চড়ে বসেছেন প্রশাসন। জনসচেতনতায় নতুন নতুন মুভমেন্ট নিয়ে কাজ করে চলছে প্রশাসনে। এমনকি এলাকা জুড়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানও দেখা যাচ্ছে। এবার লকডাউন বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগও করবেন প্রশাসন। শুধু তাই নয় কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করা হবে লকডাউন।

আগামী সোমবার থেকে সরকার ঘোষিত বর্ধিত ৭দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা হলেও দুর্গাপুর উপজেলার ও থানা ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। ইতি মধ্যে প্রশাসনের মধ্যমে করোনাভাইসরাস সংক্রমণ রোধে এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার প্রচারনা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে, রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগি রয়েছে। গতদিন গুলোতে কোন নিয়মনীতি না মানায় এ উপজেলায় বেশি মানুষ এ রোগে সংক্রমিত হয়েছে। যার ফলে এখন কোন ভাবেই রোর্ধ করা সম্ভাব হচ্ছে। তাই সংক্রমণ রোধে এবার উপজেলা প্রশাসন কঠোর আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেন কোনভাবেই বিনা প্রয়োজনে যেন কোন মানুষ বাড়ির বাহিরে বের হতে না পারে। এমনকি প্রয়োজন হলেও ‘মুভমেন্ট’ নিতে হবে। কোন ভাবেই মানুষজন যেন একত্র না হতে পারে। তাহলেই এ সংক্রমলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভাব হতে পারে। তা না হলে আগামীতে আরও করোনাভাইরাস সংক্রমনের ভয়াবহ হতে পারে।
উপজেলায় জুরুরী দায়িত্বে থাকা এস আই প্রণয় কুমার জানান,করোনাভাইরাস সংক্রমর রোধে সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিনিয়িত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমিত রোগির খোঁজ খবর নিচ্ছি। এমনকি এলাকায় কঠোর লকডাউনের কারনে কোন মানুষ যেন না খেয়ে থাকানে সেজন্য প্রতি মহত্বে এলাকায় এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। সাধারন মানুষদের ঘরের বাহিওে আসতে নিশেধ করছি। জুরুরী প্রয়োজন হলে আমরা সব সময় সকল প্রকার সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্ততি রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় আমরা গ্রাম পুলিশকে বিভিন্ন তথ্যও জন্য কাজ করাচ্ছি।
দুর্গাপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্গাপুরের করোনা পস্থিতি ভালো না। কারন এখন প্রতিটি মানুষের সর্দি, জ¦র, কাশ্মি দেখা দিয়েছে। আর করোনাভাইরাসের উপর্সগই হলো সর্দি, জ¦র,কাশ্মি। যার কারনে এলাকার সাধারন মানুষ করোনা পরীক্ষা করছে না। এবং যারা করছে তাদের দেহে করোনা পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,সরকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য নানান পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এমনকি আগামী সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশ মেনে চলার জন্য আমরা এলাকার পাড়া-মহল্লার মসজিদের মাইকে বলেছি। এমনকি নিজের উদ্যোগে এলাকার সাধারন অসহায় মানুষগুলোর প্রতিনিয়িত খোঁজ খবর নিচ্ছি। এলাকায় কারো করোনা পজেটিভ দ্রæত তার সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এমনকি ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টন মেনে চলার পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বাড়ির অন্য সদস্যদেও সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) হাসমত আলী জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় থানা এলাকায় জুরুরী সেবার অফিসার ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি মহত্বে এলাকায় খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রচারমাইক প্রতিদিন কাজ করছে। এমনকি আমি নিজে খাদ্য সামগ্রীসহ জরুরী প্রয়োজনীয় ওষুধ, মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার বির্তরণ কার্যক্রম চলমান রেখেছি।
তিনি আরো জানান, আমরা ইতি মধ্যে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। কেউ যদি কোন ভাবে কঠোর লকডাউন বিধি নির্শেধ অমান্য করে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এমনকি করোনা সংক্রমিত কোন ব্যাক্তি যদি বাড়ির বাহিরে দেখা যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে সংক্রম রোধ আইনে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদা খাতুন জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য সাধারন মানুষের আগ্রহ কম। যার কারনে হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার কম হচ্ছে। আর যা হচ্ছে তার বেশি ভাগই করোনা পজেটিভ হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, করোনা সংক্রমর রোধে কঠোর লকডাইনে চিকিৎসা সেবার মান আরো উন্নত করা হয়েছে। এমনকি আমার চিকিৎসা সেবার সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতি মধ্যে হাসপাতালে করোনা বেডও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে অক্্িরজেন সিলিন্ডার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন মৃধা জানান,করোনা সংক্রমন রোধে জনসচেতনতা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য সবাইকে বলা হচ্ছে। এমনকি প্রতিনিয়ত প্রচার মাইক দিয়ে সচেতনা করা হচ্ছে। মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করোনা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। করোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলার ব্যাপক সচেতনতা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ি উপজেরার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় করোনার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এমনকি করোনা পরীক্ষা করে পজেটিভ হলে ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টন বাধ্যতা মুলক। আমরা প্রতিটি মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য প্রতি মহত্বে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category