রাজশাহীর ধর্ষক বেল্টু প্রায় তিন মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৩ অক্টোবর, ২০২০

সাগর নোমানী,রাজশাহীঃ হতদরিদ্র আসমা (২৮) ধর্ষণের একমাত্র আসামী রাজশাহী নগরীর মেহেচন্ডী উত্তরপাড়ার (পালপাড়া) ধর্ষক এনায়েত হোসেন বেল্টু ধর্ষণ মামলার প্রায় তিন মাস (৮০ দিন) হতে চললেও গ্রেপ্তার হয়নি। ধর্ষক বেল্টু অলৌকিক ক্ষমতাবলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে হতদরিদ্র-এতিম আসমা ও তার মা-বোনকে মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক বৌ ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা ৪৮ বছর বয়সের ধর্ষক বেল্টু রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডী উত্তরপাড়ার মৃত ইজাফত আলীর ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পিতৃহীন হতদরিদ্র আসমা তার মা ও দুইবোনকে নিয়ে ছোট্ট ও একমাত্র কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে। তার মা বয়সের ভারে আর অসুস্থতার কারনে কিছু না করতে পারলেও তিন বোন সুতার মিলে সাপ্তাহিক ১২০০ টাকা বেতনে চাকরি করে কোন রকমে দিন চালায়। এদিকে প্রতিবেশী বেল্টুরা প্রভাবশালী ও টাকা পয়সা ওয়ালা পরিবার হওয়ায় মাঝে মধ্যে আসমা’দের পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করে, বিনিময়ে আসমা ও তার বোনেরাও অবসরে বেল্টুর পরিবারের বিভিন্ন কাজ কর্ম করে দেয়। এরই মধ্যে ধর্ষক বেল্টু সুযোগ পেলেই আসমাকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। আসমা বিষয়টি নাকচ করে দেয়। এক পর্যায়ে বেল্টুর কু-প্রস্তাবের মাত্রা বাড়তে থাকলে আসমা বেল্টুদের বাড়ী যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২ আগষ্ট এক আত্মীয়র মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আসমার মা ও দুই বোন সেখানে যায়। এই সংবাদ পেয়ে বেল্টু রাত্রি আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে আসমাদের বাড়ীতে এসে আসমাকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে আসমার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ী থেকে তার চাচাতো ভাই ও ভাবী এসে বেল্টুকে জাপ্টে ধরে চেঁচাতে থাকে। এক পর্যায়ে বেল্টু নিজেকে বাঁচাতে পালাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ধস্তাধস্তির কারনে রয়ে যায় তার ছিঁড়ে যাওয়া জামার অংশ ও স্যান্ডেল।

ঘটনার দিন-ই অনেক রাতে অর্থাৎ রাত ১২ টার পর ৩ আগষ্ট বেল্টুর বিরুদ্ধে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ধর্ষিতার মা বলেন, আমরা খেয়ে না খেয়ে কোন রকম দিন পার করি, এর মধ্যে বেল্টু এই অন্যায় করলো, আইনের আশ্রয় নিয়ে আমরা এখন আরো বেশী আতঙ্কিত, কারণ তারা প্রভাবশালী ও পয়সা ওয়ালা, ধর্ষকের ছোট ভাই নিলু মোনায়েম গ্রুপের প্রজেক্টের সিকিউরিটির হেড, সে এবং তার বড় ভাই মন্টু আমাদেরকে নানা মাধ্যম দিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে ; মামলা না তুলে নিলে খুব খারাপ পরিণতি হবে বলেও তারা হুমকি ধামকি দিচ্ছে, এ অবস্থায় এতিম মেয়ে গুলোকে নিয়ে আমি জীবন শঙ্কা নিয়ে এক ভীতিকর অবস্থায় দিন পার করছি, আইনের আশ্রয় নিলে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মামলা তুলে নিলেই বোধহয় আমাদের জন্য ভালো হয়। আসলে গরীবের জন্য আইন আদালত নয়, এটাই মনে হচ্ছে সত্যি !

নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুম মনির বলেন, “আসামি পলাতক, গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চালাচ্ছি, খুব তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হবে বলে আশা করছি “।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Total view = 303