• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন



রাজশাহী মহানগরীতে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ সদস্য আটক

নির্ভীক সংবাদ / ১৮২৮ Time View
Update : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১



নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর একটি বাসা বাড়িতে এক পুলিশ সদস্যের রুমে মেয়ে বান্ধবীর সাথে ডেটিং করতে এসে আরেক পুলিশ সদস্যকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে আটকে রেখে পুলিশে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।

জানা গেছে,রাজশাহীর মোহনপুর থেকে প্রেমিকা নিয়ে রাজশাহীতে বন্ধুর রুমে ডেটিং করতে আসায় স্থানীয়রা রুমে ঢুকে পিটিয়েছে মো. খাইরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যকে। বন্ধুকে বাঁচতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন নগরীর মতিহার থানার পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান।

ছবি: সংগৃহীত

রোববার (১১ মার্চ) রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধিন ধরমপুর দুলালের মোড় এলাকায় তানজিলা নামের এক মহিলার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সদস্য খাইরুল পাবনা পুলিশ লাইনে কর্মরত। তার বাড়ি উপজেলার মোহনপুরের মহব্বতপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এ ঘটনায় মতিহার থানার এসআই সেলিম ও সঙ্গীয় ফোর্স ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান, খাইরুল ইসলাম ও যুবতী (২৫) কে উদ্ধার করে মতিহার থানা নিয়ে আসে।

তবে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই বাড়ির মালিক তানজিলা, তার স্বামী ও সন্তানের সাথে আবার তর্কে জড়ায় স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে তাদেরও মারপিট করে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অপরিচিত ছেলে মেয়ে তানজিলার বাড়িতে একটি রুমে দরজা বন্ধ করে দীর্ঘ সময় ছিলো। এতে তাদের সন্দেহ হলে তারা বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। ওই প্রেমিক যুগলকে তারা আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় তারা। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে রুমে আটকিয়ে পুলিশে খবর দেয়। তারা আরও বলেন, এর আগেও একাধিক বার তারা এই বাড়িতে এসেছিলো।

পুলিশ সদস্য খাইরুল জানায়, উপজেলার মোহনপুর থেকে তার প্রেমিকাকে (২৫) নিয়ে রাজশাহী মহানগরীর লক্ষিপুরে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনিস্ট সেন্টারে আসেন চিকিৎসা জন্য। বিকেলে রিপোর্ট দেবে। তাই তার পরিচিত মতিহার থানার পুলিশ সদস্য ওবাইদুরের রুমে ধরমপুরে যান সময় কাটাতে। ওই রুমে অবস্থানের ২০ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় ১৫/২০জন যুবক বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে রুমে ধাক্কা দেয়। রুম খোলা মাত্রই তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় আমার মোবাইলে থাকা বিকাশ থেকে দুইবারে সাত হাজার টাকা তাদের মোবাইলে দেই।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রেমিকার ভ্যনিটি ব্যাগে থেকে একহাজার টাকা ও আমার মানিব্যগ থেকে নগদ তিনহাজার টাকা নেয় তারা। এতেও তারা মানবে না। তাই আমি মতিহার থানার পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামানকে ফোন করে বলি আমার এখনি ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। তখন সে আমার দেয়া ঠিকানায় আসে। পরে স্থানীয়দের সাথে তর্কে জড়ালে তাকেও মারপিট করে।

প্রেমিকা (২৫) জানায়, খাইরুল আমার বয় ফ্রেন্ড। চিকিৎসার জন্য তার সাথে পপুলার ডায়াগনিস্ট সেন্টারে আসি। বিকেল ৫টায় রিপোর্ট দেবে। তাই সময় কাটাতে খাইরুলের পরিচিত পুলিশের ভাড়া করা বাড়িতে যাই। কিন্তু বাড়িতে ঢুকে স্থানীয়রা আমাকে চড়- থাপ্পড় মারবে, টাকা কেড়ে নেবে তা আমি ভাবতে পারিনি।

মতিহার থানার পুলিশ সসদ্য আসাদুজ্জামান জানান, আমার বন্ধু মুঠো ফোনে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি তার কথা শুনে ধারনা করি সে বিপদে পড়েছে। তাই আমি তার দেয়া ঠিকানায় যাই। এ সময় স্থানীয়দের কাছে জানতে চাই টাকা কেন দিতে হবে ? এতে উত্তেজিত হয়ে ১৫/২০ জন যুবক মিলে আমাকে ব্যাপক মারপিট করে।

এদিকে, পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় সরেজমিনে যান মতিহার থানার ইন্সপেক্টর মো. ওলিউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান, এসআই সেলিম, এসআই মমতাজ ও সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়াও স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিবরণ শুনেন।

জানতে চাইলে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান নির্ভীক সংবাদের প্রতিবেদককে জানান, পুলিশ সদস্য ও যুবতী থানা হেফাজতে আছে। তাদের কাছে পুরো ঘটনা এখনো শুনি নাই। তাদের কাছে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category