• শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন



শিশুকে ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় গলা কেটে খুন, বর্ণনা দিলো খুনি

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১



রংপুর সংবাদদাতা:

রংপুরের মিঠাপুকুরে শিশু রহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলার আসামি রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্লেড, কোদাল, বটি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজা মিয়া স্বীকার করেছে যে, ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে এবং ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে সে।

নিহত রহিমা খাতুন মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গাছুয়াপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে শিশুটির নানাবাড়ির এক আত্মীয় মারা যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দাফন কাজে সেখানে যায়। শিশু রহিমা ও তার মা বাড়িতে ছিল। রাজা মিয়া একই এলাকার বৃদ্ধা হালিমার নাতি। সে সম্পর্কে শিশু রহিমার আত্মীয়। শিশুটিকে ধর্ষণের সময় শিকার চিৎকার করায় ব্লেড দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে রাজা মিয়া। এরপর লাশ পুঁতে রাখে ঘরের মেঝেতে।

জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষক রাজা মিয়া জানায়, ওইদিন দুপুরে মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে দোকানে চিপস কিনতে যায় রহিমা। এরপর বাড়ি ফেরার পথে রাজা মিয়া তাকে আরো ১০ টাকা দিয়ে আরেকটি চিপস কিনে আনতে বলে। শিশুটি চিপস কিনে আনলে তাকে ঘরে নিয়ে যায় রাজা মিয়া। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে সে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার দিলে রাজা মিয়া তার গলা টিপে ধরে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় শিশুটির। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে রহিমার গলা কাটে রাজা মিয়া। পরে কোদাল ও বটি দিয়ে ঘরের মেঝে খুঁড়ে রহিমার লাশ পুঁতে ফেলে। এরপর গর্ত পানি দিয়ে লেপে তার উপর ধানের বস্তা রেখে দেয়। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল পাশের বাড়িতে, বটি বেডের নিচে এবং রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত কাঁথা ও লঙ্গি পুকুরে লুকিয়ে রাখে।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ড আড়াল করার জন্য সবার সঙ্গে নিজেও শিশু রহিমাকে খুঁজতে শুরু করে। ওই রাতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রাজা মিয়া। পরদিন সকালে তার ঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশু রহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহতের মা হত্যা মামলা করেন। ঘটনার দিনই হত্যাকারী রাজার নানি হালিমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক মাস পর গ্রেফতার করা হলো ধর্ষক রাজা মিয়াকে।

নির্ভীক সংবাদ ডটকম।




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category