সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

স্বজনের আহাজারিতে ভারি রামেক হাসপাতাল

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ১৯ Time View

বিশেষ প্রতিনিধিঃ স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বাতাস।

শনিবার সকালে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এসে মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন। নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা রাজশাহীতে একটি পার্কে পিকনিক করতে আসছিলেন। একজন বেঁচে থাকায় মাইক্রোবাসে চালকসহ মোট ১৮ জন ছিলেন।

এদের মধ্যে বেঁচে আছেন শুধু পাভেল (২৭) নামে একজন। তিনি এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। দুর্ঘটনায় তার বাবা মোখলেসুর রহমান (৪৫) ও মা পারভীন বেগম (৪০) নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি পীরগঞ্জের ডারিকাপাড়া গ্রামে।

এছাড়া নিহত হয়েছেন পীরগঞ্জের রাঙ্গামাটি গ্রামের মো. সালাহউদ্দিন (৩৬), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৫), তাদের ছেলে সাজিদ (৮), মেয়ে সাফা (২), শামসুন্নাহারের বড় বোন কামরুন্নাহার (৩৭), উপজেলা সদরের মো. ভুট্টু (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪০), ছেলে ইয়ামিন (১৫), বড় মজিদপুরের ফুলমিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল (১৫) এবং মেয়ে সুমাইয়া (৮), সাবিহা (৩), দুরামিঠিপুরের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম (৪৬) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. হানিফ (৩০)। হানিফের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার পঁচাকান্দ গ্রামে।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাপাশিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে মাইক্রোবাসের আগুন গিয়ে পড়ে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি লেগুনায়।

দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে সাতজনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদের মধ্যে ছয়জনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। বেঁচে আছেন শুধু পাভেল। পরে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া আরও ১১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা সবাই পিকনিক করতে রংপুর থেকে ওই মাইক্রোবাসে চড়ে রাজশাহী আসছিলেন।

তাদের পিকনিকের জন্য জায়গা ঠিক ছিল রাজশাহীর শহীদ জিয়া শিশু পার্ক। সেই পার্কে পৌঁছাতে আর মিনিট দশেকের মতো লাগত। এর মধ্যেই ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটালো মাইক্রোবাসটি। তারপর মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে আগুন ধরে গেল। এ দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন।

শনিবার সকালে রামেক হাসপাতালে মরদেহ নিতে এসেছেন স্বজনেরা। এসেছেন নিহত শহীদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদাও (২০)। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন প্রথম বর্ষে। নাজমুল জানান, উপজেলা সদরে ব্যবসার সুবাদে সবার সঙ্গে সবার বন্ধুত্ব। তারা সবাই প্রতিবছর একসঙ্গে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যেতেন। করোনার কারণে বেশকিছু দিন তাদের বেড়ানো হয়নি। তাই তারা রাজশাহীতে পিকনিক করার জন্য আসছিলেন।

নাজমুল বলেন, খবরটা দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই দেখি। টিভি খুলে দেখি একই নিউজ দেখাচ্ছে। এরপর আব্বাকে ফোন করি। নম্বর বন্ধ পাই। গাড়িতে যারা ছিলেন তাদের কয়েকজনকে ফোন করে দেখি তাদের নম্বরও বন্ধ। তখন মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।

ফুলমিয়াসহ তার পরিবারের পাঁচজন মারা যাওয়ায় মরদেহ নিয়ে যাওয়ার মতোও কেউ নেই। মরদেহগুলো নিতে এসেছেন প্রতিবেশীরা। অন্যান্য মরদেহের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেছেন দরদেহের জন্য। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত হয়নি।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবু আসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। আর সরকারি খরচে মরদেহগুলো পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 nirviksangbad24.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin