স্বামীর মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি, প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যা


নির্ভীক সংবাদ24   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১ নভেম্বর, ২০২০

পবনা সংবাদদাতা: মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি রেখেছিলেন স্বামী। আর এর প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউপির আওতাপাড়া গ্রামে জাহিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার সূত্র ধরে সৃষ্ট কলহে স্ত্রী ঐশি খাতুনকে হত্যার পর তা আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করেন জাহিদ ও তার পরিবার।নিহত ঐশি ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর-আওতাপাড়া গ্রামের মাহাবুল আলমের মেয়ে। জাহিদ পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের ঘরামি মো. হারুনের ছেলে। তাদের ৮ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।শনিবার রাতেই জাহিদ ও তার পরিবারের কয়েক সদস্যের নামে থানায় মামলা করেন ঐশির মা।নিহত ঐশির মা সাহানারা বেগম জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি জাহিদের সঙ্গে ঐশির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় প্রায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। কিন্তু জাহিদ ও তার পরিবারের আরো চাহিদা থাকায় তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। মেয়ের সুখের কথা ভেবে কিছুদিন পর আরো এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে জাহিদকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়।
এদিকে বিয়ের কিছুদিন পরই তাদের মেয়ে ঐশি তার পরিবারকে জানান, স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জাহিদের মানিব্যাগে তার প্রেমিকার ছবি পান ঐশি। এ নিয়ে ঐশি প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি ঐশি তার বাবার বাড়িতেও জানান।ঐশির পরিবার বিষয়টি জানার পর তার ছোট ভাই অমিত শনিবার বিকেলে বোনকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যান। এ সময় জাহিদ তাকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ঐশিকেও বাবার বাড়িতে যেতে নিষেধ করেন। পরে অমিত ঐশিকে না নিয়েই বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু তারপর থেকেই ঐশির উপর শুরু হয় নতুন করে নির্যাতন। স্ত্রীকে বেধড়ক পিটুনি দেন জাহিদ।ঐশির মা সাহানারা বেগম আরো জানান, শনিবার সন্ধ্যায় জাহিদ তাদেরকে ফোন করে খবর দেন ঐশি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তারা গিয়ে দেখেন বিছানায় মেয়ের নিথর দেহ। তারপরও তারা জীবিত থাকার আশা নিয়ে ঐশিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ঐশিকে মৃত ঘোষণা করেন।ঐশির মা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসীর উদ্দিন লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।

এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।ওসি আরো জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। স্বামী জাহিদ ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।
নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Total view = 404