সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ন

দূর্গাপুরে ঘুষ দিয়েও চাকরি হচ্ছে না প্রতিবন্ধী যুবকের

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূর্গাপুরে ঘুষ দিয়েও চাকরি হচ্ছে না প্রতিবন্ধী যুবকের। নৈশ্যপ্রহরী পদের চাকরি স্থায়ী করতে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবক। কিন্তু তার চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। উল্টো অস্থায়ী চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

রইচ উদ্দিন (২৮) নামের এই যুবক রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী ছিলেন। তার বাবা আবদুস সাত্তার সরদারও স্কুলটির নৈশ্যপ্রহরী ছিলেন।

আবদুস সাত্তার ২০১৬ সালের নভেম্বরে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর রইচ উদ্দিনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্কুলটিতে একই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তার বাড়ি পুরান তাহিরপুর গ্রামে। ঘুষ দিয়েও চাকরি না পাওয়ায় মঙ্গলবার রইচ উদ্দিন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে রইচ বলেছেন, তার বাবার মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে রইচ উদ্দিনকে নৈশ্যপ্রহরী (এমএলএসএস) পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার। এরপর চাকরি স্থায়ী করার জন্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলে প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ রইচের কাছ থেকে নগদ তিন লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। স্কুলের প্যাডে চুক্তি করেই টাকা নেয়া হয়। এতে বলা হয়, চাকরি স্থায়ী না হলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়া হবে। এরপর আসে স্কুলের নতুন ম্যানেজিং কমিটি। এই কমিটি রইচের চাকরি স্থায়ী করার জন্য আরও সাত লাখ টাকা দাবি করে। রইচ টাকা দিতে না পারলে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষককে দেয়া তিন লাখ ২০ হাজার টাকাও রইচ উদ্দিনকে ফেরত দেয়া হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে স্কুলের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও নৈশপ্রহরী চাকরির জন্য দুইদফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। দুটি পদে পাঁচজন করে ১০ জন আবেদন করেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজনকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এমএলএসএস পদে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়।

রইচ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে স্কুলটিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এক ব্যক্তিকে নৈশ্যপ্রহরী (এমএলএসএস) পদে স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অথচ তিনি আগেই ঘুষ দিয়েছেন। স্কুলের উন্নয়নের নামে টাকা নেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে সেই টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাত করেছেন। রইচ বলেন, ঘুষ দিয়েও চাকরি না পেলে আমার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জীবন শেষ হয়ে যাবে। আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে কথা বলতে পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ধরেননি। আর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহাম্মদ আলী বলেন, আমি ঢাকায় আছি। এখন এসব বিষয়ে কথা বলব না। স্কুলে গিয়ে সবকিছু দেখে কথা বলা যাবে।

নির্ভীক সংবাদ ডটকম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 nirviksangbad24.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin